মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের

Published: September 24, 2026, 5:38 am

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ প্রসঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে এসব জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো সুযোগ তৈরি হলে গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে। এসব অংশীদারদের কেউ কেউ সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগানোর উৎসাহ দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরাসরি দৃশ্যমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, এমনটি অপরিহার্য নয়; বরং বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে চায় ঢাকা। জাতিসংঘকে একটি নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক সফর বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০৩আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৩৩

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh