যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে বিরল লাল গালিচা অভ্যর্থনা দিলেন ট্রাম্প

Published: September 24, 2026, 4:09 am

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতে এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সামরিক বিমানের মহড়াও ছিল। ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যানড্রুজে শির সঙ্গে করমর্দনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাকে ও তার স্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। হোয়াইট হাউসের এক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন। মূলত নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই বিরতির মেয়াদ এখন অন্তত ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শি জিনপিং উল্লেখ করেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হিসেবে কাজ করা। তবে বিবিসির চীনবিষয়ক সংবাদদাতা লরা বিকারের মতে, দুই নেতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের তুলনায় উচ্ছ্বাসের বিষয়টি স্পষ্ট। এই সফরকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প তার মাগা সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়ার ঝুঁকিও নিয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং শির ঘনিষ্ঠ সহযোগী চাই ছি। বৃহস্পতিবার দুই নেতার সঙ্গে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানির নির্বাহীদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, অ্যাপলের টিম কুক, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, আমাজনের জেফ বেজোস, টেসলার ইলন মাস্ক, গুগলের সুন্দর পিচাই, ডেল কম্পিউটারসের মাইকেল ডেল এবং সিটি ব্যাংকের জেন ফ্রেজার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় দুই দেশের অবস্থান ও নীতিমালা বৃহস্পতিবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্প্রতি এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে অল্টম্যান ও হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তিবিদরা প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন। হুয়াং ও ট্রাম্প উভয়ই এআই খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ সীমিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সোমবার অল্টম্যান এআই নীতিমালা প্রণয়নে বৈশ্বিক নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুও এবারের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin