নিম্ন আয়ের দেশের ঋণ মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

Published: September 22, 2026, 12:38 pm

নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণের বর্তমান পরিস্থিতি ও ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে নতুন একটি কাঠামো নিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থা দুটির নির্বাহী পর্ষদ ইতিমধ্যে এই সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি এবং ঋণের উৎসে আসা পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম সংস্থা দুটি যৌথভাবে তাদের ঋণ মূল্যায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করল।

নতুন এই কাঠামোতে দরিদ্র দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ঋণের বিশ্লেষণকে আরও কঠোর করা হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঋণের জের টানার সক্ষমতা যথাযথভাবে পরিমাপ করা এবং ঋণসংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করাই এর মূল লক্ষ্য। এছাড়া, ঋণের পূর্বাভাস যাচাইয়ের জন্য নতুন ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা চাপ সহ্য করার পরীক্ষা চালু করা হবে। দেশগুলোকে ঋণের তথ্য প্রকাশে আরও স্বচ্ছ হতে হবে, তবে ঋণ মূল্যায়নে ব্যবহৃত ডিসকাউন্ট রেট ৫ শতাংশই অপরিবর্তিত থাকছে।

আইএমএফের আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক অ্যালিসন হল্যান্ড জানান, এই সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো ঋণের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা, যাতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রায় ১৪ শতাংশ ঋণসংকটে রয়েছে এবং ৩৩ শতাংশ দেশ উচ্চ ঋণঝুঁকির মুখে আছে। এছাড়া উদীয়মান বাজারের ২৩ শতাংশ সরকারি ঋণও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে ব্যবহৃত ২০০৫ সালের কাঠামোটি ঋণসংকট শনাক্তকরণে কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের উৎসে পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার কারণে। নতুন কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিশ্লেষণের জন্য আলাদা মডিউল যুক্ত করা হবে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদ্ধতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঋণঝুঁকি পরিমাপের পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বিনিয়োগ সক্ষমতাও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তবে নতুন পদ্ধতিতে ঋণ টেকসই না হওয়ার মডেলটি এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, যাতে দেশগুলো নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পর্যাপ্ত সময় পায়।

এতে অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলো আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।হল্যান্ডের মতে, ২০২১ সালের পর ঋণ পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ধাক্কায় তা অনেকটাই বিনষ্ট হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo