মৌলভীবাজারে মাদক নিয়ে থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুবদল নেতার

Published: October 11, 2026, 11:15 am

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৪ অক্টোবর মোবাইল ফোনে এই হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিও ক্লিপে সিন্দুরখান এলাকার এক ব্যক্তিকে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সরাফত আলীকে হুমকি দিতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তি এসআইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি যেন সিন্দুরখান এলাকায় আসেন, সেখানে তাকে দেখে নেওয়া হবে। এসআইকে ‘ডন’ সম্বোধন করে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি মৌমাছির চাকে হাত দিয়েছেন এবং প্রচুর টাকা উপার্জন করেছেন।

অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আপনি নিজেকে মস্তান মনে করেন। আপনার সঙ্গে যাদের লিংক আছে, টাইম আছে নি আমার ধারে।’ ওই ব্যক্তি আরও বলেন, আজ তাকে বদলি না করা হলে থানা উড়িয়ে দেওয়া হবে। হুমকি দেওয়া ওই ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল সদর উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের স্থানীয় যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলওয়ার হোসেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের সমন্বয়ক মোসাব্বির আল মাসুদ দাবি করেন, হুমকিদাতা দেলওয়ার হোসেন। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার মোসাব্বির আল মাসুদ জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম দিয়ে মাদক ও অবৈধ ভারতীয় মালামাল দেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ১১৩ জন মাদক কারবারির তালিকা দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় মাদকের বিস্তারের সঙ্গে দেলওয়ারের পুলিশকে হুমকি দেওয়ার যোগসূত্র রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

যোগাযোগ করা হলে যুবদল নেতা দেলওয়ার হোসেন দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা থানায় বসে ওসি সাহেবের মাধ্যমে সমাধান করেছি। সেখানে মশিউর রহমান রিপন, সিন্দুরখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন উপস্থিত ছিলেন।’ থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে দেলওয়ার স্বীকার করেন, ‘না, এটা বলা আমার উচিত হয়নি।’ তিনি দাবি করেন, এর আগে এসআই সরাফত আলী এলাকার মারুফ নামে এক ব্যক্তিকে মারপিট করেছিলেন, যিনি মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন না। সেই ঘটনার জেরেই তিনি এসআইকে ফোন করেছিলেন।

সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন জানান, গত রোববার এ নিয়ে তাকে থানায় ডাকা হয়েছিল। মাদক কারবারিদের ১১৩ জনের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া কে তৈরি করেছে তা তার জানা নেই। এসআই সরাফত আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy