শেরেবাংলা নগরে সরবে সচিবালয়, হবে নতুন সড়ক ও ১২ তলা ভবন

Published: October 11, 2026, 11:46 am

রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় আর সম্প্রসারণ করা হবে না। এর পরিবর্তে সরকার সচিবালয়কে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সভায় শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য তিনটি আলাদা নকশা উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এই নকশার ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্পটি তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের প্রতিটি ভবন হবে ১২ তলা বিশিষ্ট, যা জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতির মূল পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পটিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি চায়।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় সচিবালয়ের চারপাশে একটি চক্রাকার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে নির্মিতব্য এই সড়কটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের পাশ দিয়ে মিরপুর সড়কে সংযুক্ত হবে। এছাড়া বিজয় সরণি থেকে মিরপুর ১০ নম্বরগামী সড়কের নিচ দিয়ে একটি পাতাল সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যাতে যানজট নিরসন করা সম্ভব হয়।

সচিবালয় স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ পুরান ঢাকায় অবস্থিত অন্যান্য সরকারি দাপ্তরিক কার্যালয়গুলো সরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার পরিমাণ ১৭ লাখ বর্গফুট, যা কর্মকর্তাদের কাজের জন্য অপর্যাপ্ত। নতুন সচিবালয়ে জায়গার পরিমাণ হবে ৩১ লাখ বর্গফুট। ২০২১ সালে বাণিজ্য মেলা সরিয়ে পূর্বাচলে নেওয়া হয়।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৫ সালে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণের ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প উত্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি। বর্তমান বাণিজ্য মেলার মাঠটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে এবং খালি মাঠে পার্ক বানাতে চার বছর আগে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নিয়েছিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সচিবালয় স্থানান্তর করলে জায়গাটি দখলমুক্ত থাকবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। সচিবালয় স্থানান্তর করলে কেউ আর জায়গাটা দখল করতে পারবে না। স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, ১৯৬৯ সালে করা লুই কানের নকশার আলোকে ২০২৬ সালে এসে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর ঠিক হবে না।

বলা হয়, ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।জিয়া উদ্যানের উত্তর ও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা হয়, সেখানেই ৩২ একর জমির ওপর সচিবালয় তৈরি করার কথা তখন বলা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয়কে সরানো নিয়ে আলোচনা হয়নি।নতুন বিএনপি সরকারের আমলে সচিবালয়ের ভেতর ২১ তলা একটি ভবন করতে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo