কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথ রোববার আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ জানান, নিউগিনি প্রজেক্টের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির এ ঘটনায় পৃথক কোনো মামলা করেননি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শনিবার ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটায় ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৫০ জন দুষ্কৃতকারী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি ৫০টি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা স্টুডিও থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, কম্পিউটার, বিআরবি কেব্ল ও প্রফেশনাল মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে। এছাড়া গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরির দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ক্যান্টনমেন্ট থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শটগানের পাঁচটি গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।





