কৃষকদের দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং দেশ গড়ার যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপতি। কৃষকদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান ও তাদের আরও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এই সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত হলো কৃষি। কৃষকদের ঘাম, কঠোর পরিশ্রম এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা দুর্নীতিমুক্ত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, উৎপাদিত পণ্য ও শস্য যাতে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষকরা যাতে তাদের পরিশ্রমের সঠিক দাম পান, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে কৃষকদের আরও সজাগ ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে, যেখানে ইতোমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে উৎপাদিত ফল-মূল ও কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা স্থাপন, আধুনিক হিমাগার তৈরি এবং খামারে সোলার প্যানেলের ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি।





