নির্বাচনী প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

Published: September 28, 2026, 1:45 pm

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আদালত জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না। একই সঙ্গে, ডোপ টেস্টে কারো ফলাফল ‘পজিটিভ’ হলে অথবা কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে নির্বাচনী আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি জানান, গত ১৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া না পাওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে আইনি বিধিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল।

আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সুস্থ মানসিক অবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, একজন করদাতা হিসেবে তিনি চান, সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসেবে যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তারা যেন সুস্থ মানসিকতার মানুষ হন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, দেশে মাদক বর্তমানে ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরিজীবী ও চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হলেও জনপ্রতিনিধিদের এর বাইরে রাখা সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি জনপ্রতিনিধিত্বের নৈতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেন না বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে আইনজীবী জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো জনপ্রতিনিধি মাদক গ্রহণে জড়িত হলে বিদ্যমান আইনে তার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy