জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

Published: September 28, 2026, 10:00 am

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি দাবি করেন যে, আসামিরা নির্দোষ এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা সেখানে বৈঠক করছিলেন। তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে তিনি আদালতে পুলিশের একটি অনুমতিপত্রও উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আসামিরা অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই বৈঠক করছিলেন এবং তারা ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ হিসেবে কাজ করছিলেন। জামিন দিলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি আদালতকে সতর্ক করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃত ২৭ জন হলেন: মো. দিনারুল আলম, ইমান আহম্মেদ, মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মো. মিরাজ আহমেদ, মো. মিরাজ মল্লিক, মো. রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার, মো. কাউসার হোসেন, শ্রী অন্তর শিল, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, আবদুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, মো. সুজন আলী, মো. তরিকুল ইসলাম, মো. সাইফুল্লার সাদেক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন হাওলাদার, মো. তুষার আলী, মো. রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।

এর আগে গত শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট ২৭৮ জনকে আটক করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রোববার পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটককৃতরা কার্যালয়ের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক ধারণায় তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশ জানায়।

আসামিরা হলেন মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩),

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin