কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর এলাকা থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমান পাটোয়ারী আবির ও ওমর ওসমানের সঙ্গে নৃবিজ্ঞান বিভাগের তানভির সাকিবের বিরোধ বাধে। পরবর্তীতে লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তানভির সাকিব এবং তাকে সহায়তাকারী ইংরেজি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তাসিন ও বাংলা বিভাগের হামিদের হাতাহাতি হয়।
এই ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানও করা হয়। তবে প্রক্টর অফিস থেকে বের হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে তারা প্রকৌশল অনুষদে গিয়ে আশ্রয় নেন।
এর কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষটি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন ছাত্র আহত হন।
কুবি মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান জানান, মারামারির এই ঘটনায় মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি জানায়, দুপুরে ঘটনার পর একবার বিষয়টি সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে আবারও মারামারিতে জড়ায়। ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কমিটির দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





