আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকতে পারে

Published: September 27, 2026, 3:25 pm

আগামী বছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়ন (আইজিইউ)। বিশ্বের ৯০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এই শিল্প সংগঠনটি জানিয়েছে, শীতকালীন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ইউরোপ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে এশিয়াও এই সংকটের বাইরে নয়।

আইজিইউয়ের মহাসচিব মেনেলাওস ইড্রিওস রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। ইউরোপ তাদের গ্যাসের মজুত পুনরায় পূর্ণ করার জন্য এশিয়ার চেয়ে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কেনার চেষ্টা করছে। গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তবে এই চাহিদা হ্রাস স্থায়ী নাকি সাময়িক তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এটি সাময়িক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দাম বাড়লেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গোল্ডম্যান স্যাকস কিছুটা আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। ব্যাংকটির মতে, পারস্য উপসাগর থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়লে ইউরোপে গ্যাসের দাম মেগাওয়াট-ঘণ্টা প্রতি ৭০ ইউরো থেকে ৫০ ইউরোতে নেমে আসতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের গ্লোবাল কমোডিটিস রিসার্চের সহ-প্রধান সামান্থা ডার্ট জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় পারস্য উপসাগর থেকে এলএনজি রপ্তানি এখনো ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের ঘরে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউরোপকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গ্যাসের দাম বাড়াতে হতে পারে। তবে গ্যাসের মজুত পূর্ণ করতে ইউরোপের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কয়লার দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে আগামী ছয় মাসে কয়লার ব্যবহার ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

এনার্জি-রিস্ক-আইকিউয়ের তথ্যমতে, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ৩০ দিনে ইউরোপের বেঞ্চমার্ক গ্যাসের দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই মাসে গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮০ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এশীয় আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রুশ এলএনজি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ায় বিকল্প পথে রুশ এলএনজি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ইউরোপ তার ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের গ্যাস সরবরাহের উৎসকে সংকুচিত করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মসূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকটির গ্লোবাল কমোডিটিস রিসার্চের সহ-প্রধান সামান্থা ডার্ট বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় পারস্য উপসাগর থেকে এলএনজি রপ্তানির পরিমাণ এখনো ১৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশের ঘরে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের এলএনজি

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh