রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। উপাচার্য জানান, সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকে সরাসরি দায়ী পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করা হবে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের, তাদের গ্রেপ্তার, তাৎক্ষণিক সাময়িক বহিষ্কার এবং তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার। এছাড়া যারা শিক্ষার্থী নন, তাদের সনদ বাতিল ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর এহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান ও সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সোমবার সন্ধ্যায় তারা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং রাত ১০টা ২০ মিনিটে প্রশাসন ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ ছিলেন।
এদিকে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে এবং বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এ ছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।হামলার ঘটনায় প্রশাসনের অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রায় ৪৫ মিনিট ভেতরে আটকা থাকেন।পরে রাত ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের একদল প্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে যান।আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের প্রধান দাবি ছিল, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনকে মামলা করতে হবে।





