রায়পুরায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, আতঙ্কে ফাঁকা তিন চরাঞ্চল

Published: October 11, 2026, 7:32 am

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধে চরমধুয়া, নীলক্ষা ও বাঁশগাড়ী—এই তিন চরাঞ্চলে সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুলের নেতৃত্বে শনিবার দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি ও তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরো চরাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং এলাকাগুলো প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।

উপজেলার মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর আগে একাধিকবার প্রশাসন সেখানে ব্যবস্থা নিতে গেলে ড্রেজার চক্রের সদস্য ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। এসব অনিয়ম ও সন্ত্রাসী আধিপত্য চিরতরে বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, এসআরবি এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবার কঠোর অবস্থান নিয়ে যৌথ অভিযানে নামে।

অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেঘনা নদীর বিভিন্ন অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থান সরজমিনে পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও বালু চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার লক্ষ্যে চরমধুয়া, নীলক্ষা ও বাঁশগাড়ীর বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। প্রশাসনের অভিযানে তিন চরাঞ্চলের বাজারগুলোর সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অধিকাংশ বাড়িঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং এলাকায় নারী ও শিশু ছাড়া কোনো পুরুষের উপস্থিতি মেলেনি।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ আভিযানিক দলে রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ছাড়াও এসআরবি ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা এবং চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের প্রভাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের যৌথ অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। প্রয়োজনে গভীর রাতেও তল্লাশি চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh