ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। রোববার এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, শনিবার সকালে পুলিশ নয়, বরং সাধারণ পোশাকের একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। তার মাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরে ঢুকে তাকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নয়; বাস্তবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধ্রুব রাঠি জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন বাড়ির বাইরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তার মা দরজা খোলেন। এ সময় সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু লোক তার মাকে ধাক্কা মেরে ভেতরে ঢুকে সরাসরি শোয়ার ঘরে চলে আসে। ধ্রুব ঘুম থেকে উঠে কিছু বুঝে ওঠার বা জুতো পরার সময়টুকুও পাননি। তাকে টানতে টানতে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় তার হাতে ও পায়ে সামান্য চোট লেগেছে বলেও জানান তিনি।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ধ্রুব জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। তবে আন্দোলনের অধিকার বা নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ভিডিওবার্তায় তিনি নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে যে কোনো প্রতিবাদ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। দিল্লির ঘটনার কড়া সমালোচনা করে তিনি এটিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তুলনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন, ‘এত ভয় দেখাবেন না যে ভয়ই শেষ হয়ে যায়।’
আটকের পর শনিবার দিনভর তাকে কোথায় রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। ইউটিউবার ধ্রুব জানান, তার ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। টানা ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হলেও পরিবার কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।
গভীর রাতে ছাড়া পাওয়ার পরও তাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ধ্রুব। তিনি জানান, অন্ততঃ ১৫ জন লোক তার বাড়ির ওপর নজর রাখছে যাতে তিনি বের হতে না পারেন, যা প্রকৃতপক্ষে অঘোষিত গৃহবন্দি অবস্থার শামিল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হিটলার ও মুসোলিনির অন্তিম পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি, ধ্রুব ও সিজেপি নেতাদের একদিনের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দেওয়া পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ধ্রুবকে শনিবার কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, পুলিশ সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানায়নি। ধ্রুব দাবি করেছেন, ‘আমাকে এক থানা থেকে আরেক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। বাড়িতে বা আইনজীবীকেও ফোন করতে দেওয়া হয়নি। আমার ফোনটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। টানা ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একে অপহরণ ছাড়া আর কী ব





