কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তৃতীয় দিনেও উত্তাল রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাস। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন অপ্রতিমের মা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একই সঙ্গে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তিনটি দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে কুবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরেন তার সহকর্মী এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. Azad হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোর মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এছাড়া ড. নাহিদা বেগম যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন একটি মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। সেই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিল এই মামলার অন্যতম আসামি ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন।
অপ্রতিমের মা আশঙ্কা করছেন, পূর্বের সেই মাদকবিরোধী অভিযানের জের ধরে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাই এই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ড. নাহিদা বেগমের দ্বিতীয় দাবিটি হলো গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বয়স নির্ধারণ নিয়ে। মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা আসলেই অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া তার শেষ দাবিটি হলো, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন সংশোধন করা হোক।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার শীলা বলেন, তিনি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। সন্তান হারিয়ে ড. নাহিদা বেগমের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয়। অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি এই দাবিগুলো সবার সামনে তুলে ধরার অনুরোধ করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতেই শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো জানানো হয়েছে।





