কক্সবাজারের রিসোর্টে সাইবার ফাঁদ: ৬ বিদেশি তিন দিনের রিমান্ডে

Published: September 21, 2026, 6:15 pm

কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে সাইবার ফাঁদ তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয় বিদেশিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে তাঁদের কক্সবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক এস এম গিয়াস উদ্দিন তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন তাইওয়ানের নাগরিক ওয়েই ছিং ওয়েন এবং চীনের নাগরিক সু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, সু হাইয়াং, উ চিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম রিমান্ড মঞ্জুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুবিধাজনক সময়ে তাঁদের সাইবার প্রতারণার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শওকত ওসমান জানান, আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো নিয়ে গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান দাবি করেন, যদি তাঁরা বৈধ কাজে বাংলাদেশে এসে থাকেন, তবে আইনি মুক্তির সুযোগ রয়েছে, অন্যথায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি আধুনিক মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কি-বোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, ৪০টি মাউস, একটি আইপিএস, ২৪টি কানেকশন বোর্ডসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ডিভাইসে বিশেষ সফটওয়্যার ছিল কি না, তা জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। মামলার এজাহারে চারজন পলাতক বিদেশি এবং তিনজন বাংলাদেশি সহযোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চীনা ও তাইওয়ানের আরও প্রায় ৩০০ নাগরিককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান জানান, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ঢাকায় চীনা দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দূতাবাসের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে এসে ল্যাব পরিদর্শন করেছে। এর আগে ২৫ আগস্ট মেরিন ড্রাইভের একটি রিসোর্টে অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন নাগরিক পালিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রিসোর্ট মালিকরা বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি পুলিশের বিশেষ শাখায় জমা দেওয়ার বিধান মানেননি। অভিযুক্ত বিদেশিরাও তাদের বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য বা ভিসার ধরন সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, চীনা নাগরিকেরা কর্মসংস্থান ভিসায় এলেও এসবি (বিশেষ শাখা) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo