তৃণমূলের নাম ও প্রতীক হারালেন মমতা, নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত

Published: September 18, 2026, 12:08 pm

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের বিরোধের জেরে দলটির মূল নাম 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' এবং সংরক্ষিত প্রতীক 'জোড়াফুল' সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকেই উপনির্বাচনের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ আগামী উপনির্বাচনে 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং তাদের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে 'ফুটবল খেলোয়াড়'। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী পক্ষ 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' নামে পরিচিত হবে এবং তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে 'খাম'।

এর আগে উভয় পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলেছিল কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ তিনটি নাম—'সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস', 'সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস' ও 'মমতা তৃণমূল কংগ্রেস' এবং দুটি প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছিল। কমিশন তাদের প্রস্তাবিত প্রথম প্রতীকটি অনুমোদন করেছে। বিদ্রোহী পক্ষ তিনটি নাম—'জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস', 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' ও 'পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস' এবং প্রতীক হিসেবে 'খাম', 'ব্ল্যাকবোর্ড' ও 'টর্চ' প্রস্তাব করেছিল। কমিশন তাদের দ্বিতীয় পছন্দের নামটি নির্ধারণ করেছে।

কমিশনের সিদ্ধান্তের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাদের দেওয়া নামের তালিকায় 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' তৃতীয় পছন্দ ছিল। তিনি দলের নামের সঙ্গে ব্যক্তির নাম যুক্ত হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, তাদের দলের নামে কোনো ব্যক্তির নাম নেই এবং এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দল নয়। তবে প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ পাওয়ায় তারা কমিশনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফুটবল খেলোয়াড়ের পোশাক পরিহিত ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, 'খেলা হবে। মমতাদির নামটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তো তারই সৃষ্টি, তারই অধিকার।'

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়ার মাধ্যমে আপাতত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের মূল নাম ও প্রতীক নিয়ে স্থায়ী নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না, কারণ এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলমান রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy