হুথিদের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ইরানকে চীনের গোপন আহ্বান

Published: September 18, 2026, 8:35 am

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে গোপনে অনুরোধ করেছে চীন। সৌদি আরবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেইজিং তেহরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইরানি সূত্র। সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে যেভাবে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, তাতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ কারণেই রিয়াদের পক্ষ থেকে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

চীন প্রকাশ্যে লোহিত সাগরে সংযম ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও, তেহরানের কাছে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তাটি ছিল অনেক বেশি স্পষ্ট। বেইজিং স্পষ্টভাবে ইরানকে বলেছে, তারা যেন নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে হুথিদের এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখে, যা চীনের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথগুলোতে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে চীন কীভাবে এই বার্তা দিয়েছে বা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি।

সূত্রগুলোর দাবি, তেহরান এর জবাবে জানিয়েছে যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আগে ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তবে হুথিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর কোনো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি চীন দেয়নি বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে অস্থিরতা বাড়ুক তা চায় না এবং এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উল্লেখ্য, চীন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তাদের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি সই করলেও তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ও চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় ইরানের অভ্যন্তরে সমালোচনা রয়েছে। কেপলারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে চীন, যার পরিমাণ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা থাকা হাতেগোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে চীন অন্যতম।

হুথিরা মূলত তেহরানের পশ্চিমাবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে পরিচিত এবং ইরান তাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে থাকে। তবে চীনের এই আহ্বানের পর ইরান বাস্তবে কতটা পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও তেহরান চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তবুও দেশটির নীতিনির্ধারণে বেইজিংয়ের স্বার্থই একমাত্র বিবেচ্য নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর পরিমাণ ছিল গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনরত এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, ইরানের ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাপ দেওয়ার সক্ষমতা এখনো যেসব দেশের রয়েছে, চীন তাদের অন্যতম।১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সুন্নি ধর্মীয় প্রভাবের বিরোধিতা থেকে হুথি আন্দোলনের উত্থান ঘটে।

২০২৩ সালে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি করেছিল চীন।তবে এই প্রভাবেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy