প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৬
ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব পাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ। তবে এই স্বর্ণ সরাসরি বিক্রির সুযোগ থাকবে না; বরং সরকারি ব্যয় নির্বাহ এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজের জন্য জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনার প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কারিগরি বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে এখনও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
বিরোধী দলের এক নেতা জানিয়েছেন, স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর হলেও দেলসি রদ্রিগেজ এর ওপর সরাসরি একক নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। পুরো বিষয়টি তদারকি ও বিধিনিষেধের অধীনে থাকবে। গত মাসে উভয় পক্ষ জানিয়েছিল যে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে গচ্ছিত প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করতে তারা কাজ করছে। তবে সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দীর্ঘস্থায়ী অভিযোগ থাকায় বিরোধী পক্ষ স্বর্ণের অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে চায়।
স্বর্ণ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশটিতে নতুন নির্বাচনের বিষয়ে চলমান আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একে ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেন।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত কর্তৃত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। এদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী পক্ষের এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো নতুন নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও বিরোধী পক্ষ কারচুপির দাবি তোলে। পরবর্তীতে জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পুনঃসম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আইএমএফের সাথে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।





