আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

Published: September 18, 2026, 7:50 am

আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এটি টানা তৃতীয় মাসের মতো কমার প্রবণতা বজায় রাখল। একই সাথে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসার ইঙ্গিত মিলছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে আগস্টে তা কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে গত জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। ফলে মে মাসের তুলনায় গত তিন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। পরবর্তীতে জুন ও জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় আগস্টেও মূল্যস্ফীতি কমার ধারা অব্যাহত থাকে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা বড় ভূমিকা রেখেছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমার পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও নিচে অবস্থান করছে。

এদিকে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে শহরের মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ মূল্যচাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিসিবির কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমে আসা। তাই খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই এই চাপ আরও কমাতে সাম্প্রতিক নিম্নমুখী ধারা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin