টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

Published: September 18, 2026, 12:54 pm

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্থাটির ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিসিবি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এই ডিজিটাল উদ্যোগের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের মাধ্যমেই সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, পণ্য উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ব্যবধান এবং সরবরাহ ঘাটতি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। এমতাবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো এখন আরও সহজ হবে।

মন্ত্রী জানান, টিসিবির এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচনের মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিসিবি বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগীকে সেবা প্রদান করছে, যা ভবিষ্যতে এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরির অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় টিসিবি নতুন 'উপকারী' মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এর মাধ্যমে কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও সেবা গ্রহণ করা যাবে। এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড ব্যবহারের ফলে উপকারভোগীর পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা সহজ হবে, যা কার্ড হারিয়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা দূর করবে। এছাড়া বিক্রয় ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে 'অল-ইন-ওয়ান পিওএস' মেশিনের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ডিলার ব্যবস্থাপনার কাজও এখন থেকে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

তিনি আরও করেন, টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টিসিবির সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ব্যাপক ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগ

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh