এলপিজির দাম বাড়ানোর তোড়জোড়, বাড়তি দরের চাপে দিশেহারা ভোক্তা

Published: October 30, 2026, 3:21 am

রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতেই ক্রেতাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। বাজারে এই বাড়তি দামে বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে রান্নার গ্যাসের পেছনে ভোক্তার খরচ আরও বাড়বে।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার দিনভর গণশুনানি করেছে বিইআরসি। শুনানিতে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান। এসব প্রস্তাব মূল্যায়ন করে কমিশনের কারিগরি কমিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩৯ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এতে বর্তমানে নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হতে পারে। কমিশন জানায়, শুনানিতে আসা সবার মতামত বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ সব সময়ই পাওয়া যায় এবং ২০২১ সালে নির্ধারিত কমিশন এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ বিভিন্ন মহল এই শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম অভিযোগ করেন, বাজারে ইচ্ছেমতো দামে এলপিজি বিক্রির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে দাম বাড়িয়ে কমিশন মূলত নিয়ম রক্ষার ভূমিকায় আছে, এতে ভোক্তার জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি সৈয়দ মিজানুর রহমানও বাড়তি দামে বিক্রির প্রতিবাদে এই শুনানি বর্জন করেছেন।

নভেম্বরের নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের কারণেও এলপিজির দাম বাড়তে পারে। বিইআরসি ও আমদানিকারক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় শুধু নিয়মিত সমন্বয়েই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে। এর সঙ্গে বাড়তি কমিশন যুক্ত হলে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। বর্তমানে কোম্পানিগুলো ১২ কেজির সিলিন্ডারে মজুত ও বোতলজাত করার খরচ বা কমিশন হিসেবে ২০০ টাকা পায়। ওমেরা এই কমিশন বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেলটা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশকেরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা কমিশন করার দাবি জানিয়েছেন। অটোগ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটারের কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।

শুনানিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, গত পাঁচ বছরে সৌদি কার্গো মূল্য, প্রিমিয়াম, ডলারের দর ও জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালন খরচও বেড়েছে। মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, এমন দাম নির্ধারণ করা উচিত যাতে বাজারে কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিতে না পারে। ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের অনুপ কুমার সেন জানান, ঋণপত্র জটিলতায় ১০টি কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না, ফলে বাজারে সিলিন্ডার সংকট তৈরি হয়েছে। পরিবেশকদের পক্ষ থেকেও বোতলজাত এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি এবং বাড়তি খরচের কথা তুলে ধরা হয়। দেশে এলপিজির বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে এবং এক কোটির বেশি গ্রাহক রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করেন। পরিবেশকদের কমিশন ৭০ টাকা ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ১০৫ টাকা করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo