ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন হলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী লিকুদ জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ইয়াশার জোট—উভয়ই এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএন-এর তথ্যমতে, এই অচলাবস্থা আগামী কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পরিস্থিতি সমাধান না হলে দেশটিতে আবারও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন কাটিয়ে সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর হাতে প্রায় ১২ সপ্তাহ সময় রয়েছে। প্রথমত, বিরোধী জোটের জন্য একটি পথ হতে পারে আরব দলগুলোর সমর্থন। তবে নাফতালি বেনেট এবং আভিগদর লিবারম্যানের মতো ডানপন্থী নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের তীব্র বিরোধী। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। অতীতে ২০২১ সালে রাআম-সহ আটটি দলের জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরালেও সেই সরকার এক বছরের বেশি টেকেনি।
দ্বিতীয়ত, দুই জোটের ভাঙন ঘটিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তার উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে বাদ দিতে রাজি হতে পারেন, তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচকে ছাড়তে তিনি অনিচ্ছুক। আবার আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দেওয়ায় এই পথটিও বেশ জটিল। তৃতীয়ত, বিরোধী জোটের সদস্যদের নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আটজন সংসদ সদস্যকে দলত্যাগে রাজি করানো তার জন্য বেশ কঠিন, কারণ বিরোধী জোটের চার শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
চতুর্থত, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পার্লামেন্টের দলগুলোর সাথে আলোচনার পর সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থন দিতে পারে, ফলে তিনি প্রথম সুযোগ পেতে পারেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নেতা ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে তৃতীয় একজনকে ১৪ দিনের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। তিনটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের পথে যেতে হবে ইসরায়েলকে। বর্তমানে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এবং নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারবেন।





