জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে সিডিইউর বিপর্যয়, সংস্কারের ডাক চ্যান্সেলরের

Published: September 21, 2026, 4:07 am

জার্মানির রাজ্য পর্যায়ের দুটি নির্বাচনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। গতকাল রোববার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন এবং বার্লিনে অনুষ্ঠিত রাজ্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে এই ফলাফল আসার পর চ্যান্সেলর মের্ৎস একে সরাসরি ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জার্মানির অর্থনৈতিক সংকট সমাধান ও গভীর বিভাজন দূর করতে দেশটিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। শুধু আগের সোনালি দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে কট্টর ডানপন্থী-নব্য নাৎসিবাদী দল আলটারনাটিভে ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি) প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেতে যাচ্ছে। সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, সেখানে এএফডি ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, বামপন্থী ডি লিংক ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সিডিইউ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে বার্লিনে বামপন্থী ডি লিংক পার্টি ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। সেখানে সিডিইউ ২০ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ, এএফডি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

সিডিইউর এই ফলাফল বিগত প্রায় ৭৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ। ১৯৫১ সালের ব্রেমেন নির্বাচনের পর এই প্রথম কোনো রাজ্য নির্বাচনে দলটির ভোট এক অঙ্কের ঘরে নেমে এলো। মের্ৎসের নড়বড়ে নেতৃত্বের ওপর এই ফলাফল বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এএফডির সহনেত্রী অ্যালিস ওয়াইডেল দাবি করেছেন, এএফডি এখন জার্মানির গণমানুষের নতুন দল এবং চ্যান্সেলর মের্ৎসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমন একজন দুর্বল নেতার নেতৃত্বে সিডিইউ দীর্ঘ পথ চলতে পারবে না।

বার্লিনে ডি লিংকের কার্যালয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। দলটির প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই শহরে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও ন্যায়ের জয় হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সাক্সেন-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছিল, যা ১৯৪৫ সালের পর জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কোনো ডানপন্থী দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী ভোটাররাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। এই নির্বাচনের উত্তেজনার কারণে চ্যান্সেলর মের্ৎস তার নিউইয়র্ক সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo