ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদেরকে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)। শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ার এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে 'প্রবীণ জনগোষ্ঠীর রিসোর্স মবিলাইজেশন ও সাসটেইনেবিলিটি' শীর্ষক আয়োজিত এক কনসালটেশন সভায় এই পরামর্শ তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খান।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ প্রবীণ। এই সংখ্যাটি প্রায় এক কোটি ৬২ লাখ। ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যাটি বেড়ে ২২ শতাংশের বেশি বা পাঁচ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন ৭৪.৯ বছর থেকে ৮০ বছর বা তার কাছাকাছি পৌঁছাবে। দীর্ঘজীবী এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ সহিংসতা, অবহেলা, আর্থিক শোষণ, মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা জরুরি বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
আলোচকরা জানান, প্রবীণদের ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। এতে পরিবারের আয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রবীণদের মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং প্রজন্মের মধ্যকার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তাই প্রবীণদের স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে পরিণত করতে আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতার মাধ্যমে আয়মূলক কাজে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান খালেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) রিসার্চ, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম মইনুর রহমান। এছাড়া রিকের ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ’ (আইএসআইজিওপি) প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে প্রবীণদের অংশগ্রহণের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শাওলী স্বর্না, রবিউল ইসলাম, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনিসুর রহমান, জহির মাহমুদ, আকিব হাসান, সেলিম রেজা এবং তাজুল ইসলাম। এছাড়া রিকের নবীণ-প্রবীণ আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব (আইএসএসসি), নেটওয়ার্ক অব হেল্পএইজ পার্টনারস ইন বাংলাদেশ (এনএইচপিবি), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রবীণদের স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন।





