স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিমালা তৈরি হচ্ছে: এমপি টিপু

Published: October 25, 2026, 11:42 am

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তিনি জানান, নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শেষ হলে এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এ দাবি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সেমিনারে ডা. ইকরামুল বারী টিপু এসব কথা বলেন। ‘ইসলাম শিক্ষা বিস্তারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং নৈতিক শিক্ষায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষা ঐক্যফ্রন্ট।

সেমিনারে সংসদ সদস্য টিপু বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির বিষয় নিয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। যেহেতু এমপিও দিতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন, সেহেতু সেই নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ এখন চলমান। এই কাজ শেষ হলে নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও কেন এমপিও দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া যাবে।

জাতীয় সংসদে বিষয়টি তোলার ক্ষেত্রে নিজের নেওয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, অবিলম্বে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়ে একটি নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় লটারিতে তার নোটিশটি বিজয়ী হলে তিনি এ নিয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবেন, যার মাধ্যমে অন্য সংসদ সদস্যরাও দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখতে পারবেন। পাশাপাশি বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংসদের ৭১ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বেও এটি উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।

শিক্ষকদের দাবির সুরাহা করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দেন ডা. টিপু। তিনি জানান, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা যাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

সেমিনারে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির গেজেট প্রকাশ করা;অনুদানবিহীন বাকি সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার কাছ থেকে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণের লক্ষ্যে অবিলম্বে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা; এবংসংসদ সদস্যদের দেওয়া ডিও লেটার ও সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য বিবেচিত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণ করা।ইসলামি শিক্ষার প্রসার ও দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন সম্পর্কে শিক্ষকেরা জানান, ধর্মীয় শিক্ষাক্রম বিস্তারের উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সমান করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh