কুমিল্লা নগরে দেশি অস্ত্র হাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহড়া ও স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগরের টমছম ব্রিজ এলাকার একটি ভাঙা ভবনের ছাদে ধারণ করা ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে জেলা পুলিশের নজরে আসে। পরে গোপনীয় খবরের ভিত্তিতে রোববার দিনভর সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ১৯ বছর বয়সী মো. শাওন এবং অপর তিন কিশোর, যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৭ বছর। শাওন ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ‘সিটিজি’ নামের আরেকটি গ্রুপের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বরুড়া উপজেলার এগারো গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে কুমিল্লা নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় তোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন।
অন্য তিন কিশোরের একজন লালমাই উপজেলার, একজন হবিগঞ্জের এবং অপরজন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা। তারা তিনজনই উনাইসার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে এবং ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আজ রোববার দুপুরেই তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে ভাঙা ভবনের ছাদে গ্যাংয়ের অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যে রামদা, চাপাতি ও ছেনিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র উঁচিয়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এতে কয়েকজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সেখানে এক কিশোরকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই উনাইসারে কোনো ট্রেন্ড আছে রে?’ জবাবে অন্যরা চিৎকার করে বলে, ‘আছে।’ এরপর ‘ওই সেই ট্রেন্ড, এসবিএস’ বলে তারা সবাই মিলে ‘জোরে বলো এসবিএস, এসবিএস, এসবিএস’ স্লোগান দিতে শুরু করে। গত শনিবার ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ‘এসবিএস’ গ্রুপের তিনজন ও ‘সিটিজি’ গ্রুপের একজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাস্যবাদে তারা স্বীকার করেছে, মূলত গ্যাংয়ের পরিচিতি ও নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতেই শুক্রবার এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, থানায় আগে থেকেই কিশোর অপরাধের মামলা রয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নগরে কিশোর গ্যাংকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যারা গ্যাং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে, তাদের প্রত্যেককেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যাওয়া চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্যাংটির বাকি সদস্যদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





