এলডিসি উত্তরণ টেকসই করতে ৫ পক্ষ নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ সরকারের

Published: November 1, 2026, 11:40 am

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার একটি ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগে পাঁচটি প্রধান পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে—জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সোমবার সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য যে বাড়তি তিন বছর সময় পাওয়া গেছে, সরকার তাকে কেবল সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছে।

উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ‘গ্র্যাজুয়েশন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি টেকসই হতে হবে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ, তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। সরকার এই প্রস্তুতিকালকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।

সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে ড. তিতুমীর বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা ‘কম্প্যাক্ট’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলের অংশ।

জাতিসংঘের ভূমিকার বিষয়ে তিনি জানান, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) এই সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে এই সংস্কার পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, অতীতে এমনভাবে মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়নি, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভাসমান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অপচয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin