কারওয়ান বাজারে সারা বছর বাটার জুতায় বিশেষ ছাড়, বছরে বিক্রি লাখ জোড়া

Published: November 3, 2026, 3:04 am

কম খরচে ভালো মানের জুতা কিনতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি বিশেষ বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন টিউশনি করে নিজের খরচ চালান। নতুন জুতা কেনা দরকার হলেও হাতে বেশি টাকা ছিল না। এক বন্ধুর কাছে খবর পেয়ে গত শনিবার বিকেলে বাসে চড়ে কারওয়ান বাজারে আসেন তিনি। সেখান থেকে মাত্র ৬০০ টাকায় কিনে নেন এক জোড়া জুতা। জুতা কিনে ফেরার পথে শিহাব জানান, অন্য শোরুমে এই জুতার দাম লাগত এক থেকে দেড় হাজার টাকা। প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়ে কিনতে পেরে তাঁর বড় উপকার হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবন এবং মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে অবস্থিত বাটার এই শোরুমটিতে বিভিন্ন পণ্যের গায়ে থাকা প্রকৃত মূল্যের ওপর সারা বছরই ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হয়। শোরুমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখান থেকে বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ জোড়া জুতা বিক্রি হয়ে থাকে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আনাগোনা এখানে সবচেয়ে বেশি।

সাভার থেকে কারওয়ান বাজারে প্রয়োজনীয় কাজে এসে বাটার শোরুমে কেনাকাটা করতে ঢোকেন সরকারি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, চাকরির শুরুর দিকে যখন তাঁর বেতন কম ছিল, তখন থেকেই তিনি নিয়মিত এই বিক্রয়কেন্দ্রে আসেন। এটি বাটার জুতা হওয়ায় বাইরের নন-ব্র্যান্ড জুতার চেয়ে টেকসই ও ভালো বলে মনে করেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যে নিজের পায়ের নির্দিষ্ট সাইজ পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি। হাফিজুর রহমানের মতে, নতুন চাকরিজীবী, কম আয়ের মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফরমাল জুতা কেনার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপযোগী একটি স্থান।

একইভাবে কারওয়ান বাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলের কর্মী জাকির হোসেন ১ হাজার ৯৯৯ টাকা মূল্যের একটি শু মাত্র ৮০০ টাকায় কেনেন। তিনি জানান, এখান থেকে এ নিয়ে চারবার জুতা কিনেছেন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য। মান সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, স্বাভাবিক জুতার চেয়ে সামান্য এদিক-সেদিক হলেও সামগ্রিকভাবে মান ভালোই এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

বিক্রয়কেন্দ্রটিতে চামড়ার তৈরি শু, জুতা, স্যান্ডেল ও স্পঞ্জের পাশাপাশি কৃত্রিম চামড়ার কেডস পাওয়া যায়। এ ছাড়া শিশু ও কিশোরদের স্কুল জুতা ছাড়কৃত মূল্যে ৩০০-৪০০ (300-400) টাকায় বিক্রি হয়, যার প্রকৃত দাম ৮৯৯-৯৯৯ (899-999) টাকা। কারখানা শ্রমিকদের ব্যবহার উপযোগী নিরাপত্তা জুতা বা সেইফটি শু পাওয়া যাচ্ছে ৯০০ টাকায়, যার প্রকৃত মূল্যে ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। বিশেষ ব্র্যান্ডের মধ্যে হাস পাপিসের জুতা ছাড়ের পর ২ হাজার টাকা এবং নর্থস্টারের স্নিকার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাটার ঐতিহ্যবাহী চামড়ার জুতা ও ফ্লোর স্যান্ডেল ৩০০ টাকা এবং মাত্র ৪৫ টাকায় মিলছে স্পঞ্জ স্যান্ডেল। সব মিলিয়ে চামড়ার শুয়ের দাম ছাড়ের পর সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত থাকলেও অধিকাংশ জুতা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকাই কেনেন ক্রেতারা। আর কেডস ও শু সাধারণত ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

তবে কম দামে পেয়েও পণ্যের মান নিয়ে সংশয়ে থাকেন কেউ কেউ। গত শনিবার সন্ধ্যায় সানজিদা আক্তার নামে এক ক্রেতা বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও জুতা না কিনে ফিরে যান। তিনি জানান, এত ছাড়ে জুতা বিক্রির খবর আগে জানা ছিল না। বাজারে এসে দাম অনেক কম দেখলেও কিছু জুতার মান কম মনে হওয়ায় টাকা খরচ করে কেনা ঠিক হবে কি না, সেই সন্দেহে খালি হাতে ফিরছেন তিনি।

মূল্যছাড়ের কারণ ব্যাখ্যা করে শোরুমের এক কর্মী জানান, বাটার কারখানায় জুতা তৈরির পর মান যাচাই বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল (কিউসি) পরীক্ষায় যে জুতাগুলো প্রথমবারে উত্তীর্ণ হতে পারে না, সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো পণ্যগুলো ছাড়কৃত মূল্যে বিক্রির জন্য এই শোরুমে আনা হয়। খালি চোখে এই সাধারণ ভুল ধরা কঠিন এবং এগুলো মূল জুতার মতোই টেকসই। বড় ধরনের কোনো ত্রুটি থাকলে তা এখানেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয় না।

রাজধানী ঢাকায় বাটার এমন ছাড়ের দোকান মাত্র একটিই রয়েছে। এর বাইরে ঢাকার বাইরে টঙ্গীতে বাটার মূল কারখানার সামনে আরও একটি শোরুম রয়েছে। কারওয়ান বাজারের শোরুমটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ হিসেবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

তবে বেশির ভাগ জুতা ২৫০-৬০০ টাকায় কেনা যায়।

আর কেডস ও শু বিক্রি হয় ১০০০-১২০০ টাকায়।.শোরুমজুড়ে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে আছে ছেলেমেয়েদের স্কুল জুতা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo