যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বললেন রাষ্ট্রপতি

Published: November 1, 2026, 6:44 am

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বলে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তরুণদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) পালিত হতে যাওয়া এ দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই বিশেষ বার্তা দেন রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতি বাণীতে উল্লেখ করেন, একটি জাতির মূল প্রাণশক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নের প্রধান নিয়ামকই হলো তার তরুণ ও যুবসমাজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বড় গণতান্ত্রিক অর্জনেই যুবসমাজের অগ্রণী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তরুণদের অনবদ্য অবদান রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করেন।

এবারের জাতীয় যুব দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শক্তি ও সম্ভাবনা। যুবসমাজকে একটি দক্ষ এবং উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব হলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতি পাবে। এ প্রেক্ষাপটে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার স্বার্থে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই উদ্যোগকে আরও সুদৃঢ় করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের যৌথ সম্পৃক্ততায় যুব উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি শিক্ষা, হস্তশিল্প ও কৃষিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, নারী ও শিশুদের প্রতি সর্বপ্রকার সহিংসতা বন্ধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের সামাজিক আন্দোলন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়াকে সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। বাণীর শেষাংশে তিনি জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin