নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ ও উপদেষ্টা ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা ও সরাসরি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয় যে, আলিফ ফকির তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। বিশেষ করে দুর্গাপুর, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন ও অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড ছিল তার অনুসন্ধানের মূল বিষয়বস্তু। হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও তিনি অপরাধ জগতের এক ‘গডফাদারের’ তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আলিফ ফকিরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বক্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১১ মাস আগে তিনি নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং সীমান্ত এলাকার অপরাধী চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এর আগে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। বক্তারা এসব তথ্য ও হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান, যদিও চোরাচালানের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন তার স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। মানববন্ধন থেকে পুরো ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও নেপথ্যের কুশীলবদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের জেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ ও উপদেষ্টা ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা।





