শিক্ষামন্ত্রীর নিজ উপজেলা কচুয়ায় এইচএসসি ও আলিম ফলে বড় বিপর্যয়

Published: October 31, 2026, 10:56 am

সারাদেশের ন্যায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নিজ উপজেলা হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় এবারের ফলাফলে পাসের হার এইচএসসিতে ৩৯.৯৬ শতাংশ এবং আলিমে ৬৪.১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩ জন এবং আলিমে ৭ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৯টি কলেজ থেকে ১ হাজার ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন ৬২৯ জন। অন্যদিকে ১৪টি মাদ্রাসা থেকে ৪৬০ জন আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৯৫ জন। এমন ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করা এবং ফলাফলের এই ধস নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের দিক থেকে এবারও উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হাসিমপুর গ্রামে অবস্থিত ড. মনসুর উদ্দিন মহিলা কলেজ। এই কলেজ থেকে ১৭১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর ডিএস ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, যেখান থেকে ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ জন।

শিক্ষার এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে স্থানীয় অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড. মনসুর উদ্দিন মহিলা কলেজের এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শুধু ঘরে পড়াশোনা যথেষ্ট নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ আরও বলেন, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারা, পাঠদানের মান হ্রাস এবং সার্বিক নজরদারির অভাবেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও তলানিতে ঠেকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy