বাগদান হলেই কি মেলামেশা বৈধ? ইসলামের বিধান ও ভুল ধারণা

Published: October 12, 2026, 3:03 am

বিয়ে মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তাই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বিনদারি, স্বভাব-চরিত্র ও পারস্পরিক সামঞ্জস্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ইসলাম বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরিচয় ও খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাগদান বা এনগেজমেন্টকে অনেকেই বিয়ের সমতুল্য মনে করে পাত্র-পাত্রীর অবাধ কথাবার্তা, দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশাকে স্বাভাবিক মনে করেন। অথচ বাগদানের পর তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা রয়েছে।

ইসলামে বিয়ের প্রস্তাবকে খিতবা বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নারীদের বিয়ের প্রস্তাবের ব্যাপারে তোমরা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে কিংবা তা নিজেদের অন্তরে গোপন রাখলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩৫)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, বিয়ের প্রস্তাব এবং বিয়ে এক বিষয় নয়। এমনকি বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলেও বিয়ের আকদ না হওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই বাগদানের মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী একে অপরের স্বামী-স্ত্রী হয়ে যায় না; তারা পরস্পরের জন্য গায়রে মাহরাম বা পরনারী ও পরপুরুষ হিসেবেই গণ্য হয়।

বাগদানের পর পাত্র-পাত্রীর একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে বসা, নির্জনে দেখা করা কিংবা দীর্ঘ সময় একান্তে কথা বলার প্রবণতা সমাজে দেখা যায়। অনেকে মনে করেন বিয়ে যেহেতু ঠিক হয়ে গেছে, তাই এতে সমস্যা নেই। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে নিকাহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করবে না, যদি তার সঙ্গে কোনো মাহরাম না থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস ১৩৪১)। অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস ২১৬৫)। আদ-দুররুল মুখতার ও ফতোয়া ওসমানীর তথ্যমতে, বাগদানের পর একান্ত সাক্ষাৎ বৈধ হয়ে যায় না।

বর্তমান সময়ে সম্পর্কের বড় একটি অংশ চলে মুঠোফোনে। দেখা না হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা, রাত জেগে চ্যাট করা, কিংবা আবেগঘন বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করা এনগেজমেন্টের পর বৈধ নয়। যোগাযোগের মাধ্যম প্রযুক্তি হলেও শরিয়তের মূলনীতি পরিবর্তিত হয়নি। মুখোমুখি বসে কথা বলা যেমন বৈধ নয়, মোবাইলে লিখে বা বলে সেই আলাপ করাও বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৩২)। প্রযুক্তির মাধ্যমে গোপন আলাপ মূলত হাদিসে বর্ণিত একান্ত সাক্ষাতেরই আধুনিক রূপ। তাই টাচ, ফোন, মেসেঞ্জার ও ভিডিও কলে যোগাযোগ জিনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সমাজে সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো ‘বাগদান হয়ে গেছে, এখন আর সমস্যা নেই।’ শরিয়তের দৃষ্টিতে নিকাহর পরেই কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক শুরু হয়, বাগদানের দিন থেকে নয়। বিয়ে ছয় মাস পর হোক, এক মাস পর হোক কিংবা আগামীকাল—নিকাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত পাত্র গায়রে মাহরাম এবং পাত্রী গায়রে মাহরাম। তাই নিকাহর আগে যে কাজ একজন অপরিচিত গায়রে মাহরামের সঙ্গে করা বৈধ নয়, শুধু বাগদান হওয়ার কারণে তা বৈধ হয়ে যাবে না। (আদ-দুররুল মুখতার ৮/৪২, ফতোয়া ওসমানী ২/২২৯, ফতোয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৭/১৩০, ইমদাদুল আহকাম ৩/২০২)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin