হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কী এবং কেন হয়, জানালেন বিশেষজ্ঞ

Published: October 30, 2026, 3:25 pm

ফুটবল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দৌড়ানোর সময় খেলোয়াড়দের ঊরুর পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভব করা এবং মাঠে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য বেশ পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই ধরনের আঘাতকে বলা হয় হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন। হ্যামস্ট্রিং মূলত ঊরুর পেছনের তিনটি প্রধান পেশির সমষ্টি, যা দৌড়ানো, লাফ দেওয়া, হাঁটু ভাঁজ করা এবং দ্রুত গতি পরিবর্তনের মতো কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলায় এই পেশিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।

ওয়ার্ম-আপ ছাড়া হঠাৎ দৌড় শুরু করা, হুট করে গতি বাড়ানো বা কমানো, পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়া, নিতম্বের পেশি দুর্বল থাকা কিংবা ঊরুর সামনের পেশি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে থাকা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির প্রধান কারণ। এছাড়া আগে একই জায়গায় চোট পাওয়ার ইতিহাস থাকলে পুনরায় ইনজুরির ঝুঁকি বেড়ে যায়। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী এটি তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম মাত্রায় হালকা টান, দ্বিতীয় মাত্রায় পেশির আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া এবং তৃতীয় বা তীব্র মাত্রায় পেশি বা টেন্ডন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আঘাতের সময় ‘পপ’ শব্দ হওয়া, তীব্র ব্যথা, হাঁটায় সমস্যা, পেশিতে দুর্বলতা বা কালশিটে দাগ গুরুতর ইনজুরির ইঙ্গিত দেয়।

আঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা ও ফোলা নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। বিশ্রাম, ঠান্ডা সেঁক, কমপ্রেশন এবং আক্রান্ত পা কিছুটা উঁচু করে রাখা আরামদায়ক। ব্যথা প্রকট হলে ক্রাচের প্রয়োজন হতে পারে এবং অনেক সময় হাঁটুকে অতিরিক্ত প্রসারণ থেকে বাঁচাতে চিকিৎসকের পরামর্শে নি ব্রেইস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তবে সব ক্ষেত্রে ব্রেস বা দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রামের প্রয়োজন নেই।

ব্যথা কমে গেলেই খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরে যাওয়ার ভুল করা উচিত নয়, কারণ ব্যথা চলে যাওয়া মানেই পেশি পুরোপুরি সুস্থ হওয়া নয়। গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাকিব আল নাহিয়ান জানান, ব্যথা কমার পর ধাপে ধাপে ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশির শক্তি ও নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে হবে। হাঁটা থেকে জগিং, তারপর দৌড় এবং সবশেষে স্প্রিন্ট ও লাফ—প্রতিটি পর্যায় ব্যথামুক্তভাবে শেষ করতে হবে। আক্রান্ত পায়ের নড়াচড়া ও শক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা নিশ্চিত করাই সুস্থতার মূল লক্ষ্য।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo