পোশাক খাতের অস্থিরতায় সাবেক এমপি ও মালিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Published: November 2, 2026, 8:47 am

চলমান পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভে অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন শিল্পমালিক জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযুক্ত মালিকদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও আছেন। সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাক খাতের মালিক সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দায়িত্বশীল পদে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানা বন্ধ রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তাই বন্ধ রাখা কারখানাগুলোর মালিকদের শনাক্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কাছে তালিকা চেয়েছে সরকার। একইভাবে আন্দোলন উস্কে দেওয়ার পেছনে যেসব শ্রমিকনেতা ও সংগঠন জড়িত, তাদেরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার পক্ষে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত নন। শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করে যারা আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তদারকি নিশ্চিত করতে পুলিশের সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে, যা ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক তদারকির স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ এবং পোশাক কারখানা মালিক সংগঠনগুলোর মনোনীত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রতিনিধি হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদী সমর্থক একটি গোষ্ঠী নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। যারা সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালানোর মতো নাশকতায় ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। আন্দোলনের আড়ালে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও উস্কানিদাতাদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং অপরাধের অডিও, ভিডিও ক্লিপসহ নানা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে এই আন্দোলন চলছে। সংকট নিরসনে ও মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান মেনে কয়েক সপ্তাহ আগেই সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দল নির্ধারণ করেছিল। শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি নির্বাচনে কিছুটা বিলম্ব ঘটায় গত পরশু রাতে তাদের নাম জমা দেওয়ার পরপরই প্রজ্ঞাপন জারি করে চূড়ান্ত বোর্ড গঠন করা হয়। সোমবার অথবা খুব শিগগিরই মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৮আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৯

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh