নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল ৪০ বাড়ি, বহু সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত

Published: October 11, 2026, 11:43 am

নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার ভোরের দিকে জেলাটির চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। পানির তোড়ে ভেসে গেছে একাধিক পদচারী ঝুলন্ত সেতু, যানবাহন চলাচলের উপযোগী একটি লোহার সেতু এবং একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুল অবকাঠামো। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান নারায়ণ প্রসাদ সাপকোটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে হঠাৎ করেই বুধি গণ্ডকী নদীতে পানি বেড়ে যায়। এতে চুমনুব্রি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত জগৎ বাগার, সাল্লেরি এবং ঘাট্টিখোলা এলাকার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পানির তোড়ে ভেসে যায়। এর পাশাপাশি প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি লোকালয় এবং ঝুঁকির মুখে পড়েছে আশেপাশের বহু বসতবাড়ি। একই সঙ্গে ধারচে-৩-এর সাল্লেরি এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বন্যার আশঙ্কায় রয়েছে এবং মাছাখোলার কয়েকটি বাড়িও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বন্যার পানির প্রবল তোড়ে ন্যাকচেত ও সিরদিবাস এবং মাছাখোলা ও কেরাউজাকে যুক্ত করা দুটি ঝুলন্ত পদচারী সেতু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী সোটি এলাকায় গাড়ি চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ধাদিং ও গোরখা জেলাকে যুক্ত করা আরুঘাটের সেতুটিও পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, ন্যাকচেত ও ফিলিম বাজার সংযোগকারী আরও একটি সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আকস্মিক এই দুর্যোগের মুখে পড়ে বেশ কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। চুমচেত এলাকার উঙ্গিলুং নদীর তীরবর্তী একটি অস্থায়ী ছাউনিতে থাকা পাঁচ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে সিরদিবাস থেকে চুমলিং অভিমুখে যাওয়া চার থেকে পাঁচজন পশুপালকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ভূমিধসের আশঙ্কায় থাকা জগৎ এলাকা থেকে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছয়জনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য পর্যন্ত বন্যায় কারও মারা যাওয়া বা আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

পানির প্রভাবে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সাল্লেরির চুমনুব্রি-৩ অঞ্চলে অবস্থিত ৩৪১ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। নদীটির পানি হুট করে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির মূল নির্মাণশিবির এবং প্রয়োজনীয় বেশ কিছু ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ভেসে গেছে।

হঠাৎ এই বন্যা সৃষ্টির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চুমচেতের কাছাকাছি একটি এলাকায় ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকীর একটি উপনদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তা কৃত্রিম জলাধার তৈরি করে একযোগে প্রচণ্ড বেগে নেমে আসার কারণে এ আকস্মিক বানের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্রেও ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসের প্রমাণ মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ত্রিশূলী নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বেনিঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় অতি উচ্চ বন্যাঝুঁকি দেখা দেওয়ায় মুগলিং, চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি অঞ্চলের অধিবাসীদের সাবধানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin