জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত ২০শে সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির ঠিক ১১ দিন পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বল্প আয়ের সাধারণ ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, বাবুবাজার ও নিউমার্কেটের মতো বাজারগুলোতে সরু চাল যেমন মিনিকেট ও নাজিরশাইল মানভেদে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর কিছু ব্র্যান্ডের চালের দাম ৭৬ থেকে ৮৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। মাঝারি মানের চালের মধ্যে বিআর-২৮, ব্রি-২৯ ও পাইজাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়া পোলাও চালের দাম কিছুটা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ২০০ থেকে ২১০ টাকা ছিল।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়া থেকে চাল আনতে ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার খাজানগর ও নওগাঁর মোকামে ধানের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ায় মিলগেটে চালের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। বেঙ্গল অটো রাইস মিলের বিক্রয়কর্মী জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বাড়ায় কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা পর্যন্ত দাম বাড়াতে হয়েছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সব সময় দাম বাড়ানোর সুযোগ খোঁজেন এবং সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম জানান, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় বাড়ছে না। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, সারা দেশে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদারকি চলছে এবং নতুন করে চালের দাম বাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাজার অভিযান জোরদার করা হবে।





