ইউক্রেনের পরিবহনব্যবস্থায় হামলা বাড়াচ্ছে রাশিয়া

Published: October 8, 2026, 6:20 pm

ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্ক। অঞ্চলটির বড় একটি অংশ বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৌশলগত এই শহরটি পুরোপুরি দখলে নিতে এখন নতুন করে মরিয়া হয়ে উঠেছে রুশ বাহিনী। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া, যা এখনো চলমান রয়েছে।

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ ও উত্তর এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত। রুশ ফেডারেশনের রাজধানী মস্কো দেশটির প্রধান প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বিশ্বের মোট আবাসযোগ্য জমির প্রায় আট ভাগের এক ভাগ রাশিয়ার দখলে। বিশাল আয়তনের কারণে দেশটি নয়টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। এছাড়া পারমাণবিক শক্তিধর বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর রাশিয়া একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সাংবিধানিকভাবে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ হওয়ার ইতিহাস থাকলেও বর্তমানে দেশটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং দেশটির পার্লামেন্ট বা ডুমা উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই ভাগে বিভক্ত। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ভাষা রুশ, যা প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ব্যবহার করে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ২৭টি ভাষা প্রচলিত রয়েছে।

ধর্মীয় দিক থেকে রাশিয়ার বেশির ভাগ মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। তবে ভলগা তাতারস, বশখিরস ও তাতার অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। রাশিয়ার অর্থনীতি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ১৯৯৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এই সম্পদ দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মিটিয়ে চলেছে। দেশটির মুদ্রার নাম রুবল এবং জলবায়ুর দিক থেকে এটি একটি শীতপ্রধান দেশ, যেখানে সারা বছরই হিমশীতল আবহাওয়া বিরাজ করে।

ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউরোপের এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত বিশ্বকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo