হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান

Published: October 8, 2026, 3:43 pm

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ইরান। মার্কিন অবস্থান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনকে নিজেদের আনুষ্ঠানিক জবাব জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তিনি বলেন, আমরা সাত দিনের যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলাম, তার প্রেক্ষিতে আমেরিকানদের অবস্থান আমরা পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।

তেহরানের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার করা এবং একই সাথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ পুনরায় উন্মুক্ত করা। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আরাগচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত এই জলপথ খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর ষষ্ঠ দিনে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ যোগাযোগের সময় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জবাব আরাগচির কাছে পৌঁছেছে, যদিও সেই জবাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাকর। জুনে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ইরান প্রণালিতে বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, তাদের শর্ত পূরণ ও মার্কিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজে পুরোপুরি স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরবে না। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জুনে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও নিরাপত্তা ও বাস্তবায়নের মতবিরোধের কারণে তা থমকে যায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh