বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

Published: October 8, 2026, 5:44 pm

বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট একক কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ৮ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিবাসন, সাইবার অপরাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তিনি কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে সংযুক্ত করলেও নতুন ধরনের বৈষম্য, বিভাজন ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ। ইস্তাম্বুলকে সংস্কৃতি ও সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এটি শুধু মানবিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং দেশের পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্বের মাধ্যমেই এর সমাধান করতে হবে। তুরস্কের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি এই সংহতিকে আরও টেকসই করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মতো সমস্যার কোনো সীমান্ত নেই। তাই কোনো দেশের একক আইন দিয়ে ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকৃত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার এমন হওয়া উচিত যা সবার জন্য সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ। পরিশেষে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্লান্ত, এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এসেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin