তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠককালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান তুরস্কের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তাঁর দলের অবদান ও ভূমিকা সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংকট এবং তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে বিশদভাবে তুলে ধরেন জামায়াত আমির। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান।
দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকে বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন জামায়াত আমির। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য এবং মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
এই বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দেশটির সংসদ সদস্য আকিফ ইলমাজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং জামায়াত নেতা ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।





