এক পরিবারের ৬ সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের অনন্য সাফল্য

Published: October 9, 2026, 5:02 pm

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকের সব সন্তানই এখন দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে আরাফাত হোসেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে পরিবারটি। এর আগে ছায়েদ উল্লাহ ও শামীমা বেগম দম্পতির বাকি পাঁচ সন্তানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ফাজিল মিয়ার হাট এলাকার ‘ছায়েদ মাস্টার বাড়ি’র এই গল্পটি এলাকায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। ছায়েদ উল্লাহ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ ওয়াপদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ৩০ বছর শিক্ষকতা করে অবসর নেন। সামান্য বেতনের চাকরিতে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সব বাধা পেরিয়ে সন্তানদের এই সাফল্য আজ তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি এনে দিয়েছে।

এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে, যখন বড় ছেলে শামসুল আলম দিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। দ্বিতীয় ছেলে শাহজাহান সিরাজ আল মামুন ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। তৃতীয় ছেলে আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক শাখায় সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োজিত আছেন।

চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম বিজয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র কন্যাসন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন। আর সর্বশেষ ছোট ছেলে আরাফাত হোসেনের ভর্তির মাধ্যমে পরিবারের ছয় সন্তানেরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো। এর আগে ২০২২ সালে এই পরিবারের পাঁচ সন্তানের ঢাবিতে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

এই অসাধারণ অর্জনে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। কমলনগরের একটি মাধ্যমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সানা উল্লাহ সানু বলেন, “এটি কেবল ছয় সন্তানের ভর্তির গল্প নয়; এটি একজন শিক্ষকের নিষ্ঠা এবং শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখার এক প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

কমলনগরের স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. আরিফ হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ ও তাঁর পরিবার প্রমাণ করেছেন, সততা, অদম্য ইচ্ছা ও সঠিক চেষ্টার সামনে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কখনো বাধা হতে পারে না। একটি সীমিত আয়ের পরিবারের ছয় সন্তানই দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে—এটি বাস্তবে রূপ নেওয়া এক রূপকথা।”

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh