সোনাদিয়া দ্বীপে অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত

Published: October 5, 2026, 12:03 pm

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করে গড়ে তোলা অবৈধ চিংড়িঘেরগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই অভিযানে সহায়তা করার জন্য নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। গত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম জানিয়েছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে এবং দখলমুক্ত করতে নৌবাহিনী সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এই লক্ষ্যে ‘স্ট্রেনদেনিং ক্যাপাসিটি অব এমওইএফসিসি, ডিওই অ্যান্ড বিএফডি ফর ন্যাচারাল রিসোর্চ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানগ্রোভ বনের বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য জোয়ার-ভাটার প্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দখলদাররা বনের ভেতর ছোট ছোট খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় বন প্রাণহীন হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের অনুমান, কমপক্ষে ৭ হাজার একর প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে। বিট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, জনবল সংকটের কারণে তারা দখলদারদের বাধা দিতে গিয়ে প্রায়ই হামলার শিকার হন।

সোনাদিয়া দ্বীপটি ২০০৬ সালে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত হয়। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১ হাজার ১ টাকার বিনিময়ে ইকোট্যুরিজম পার্ক করার জন্য ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তর করেছিল, যার ফলে বন বিভাগ আইনি কর্তৃত্ব হারায়। তবে বেজা কোনো কার্যক্রম না নেওয়ায় দখলদারিত্ব ব্যাপক আকার ধারণ করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫ সালের মার্চে সরকার এই ৯ হাজার ৪৬৬ একর বনভূমি পুনরায় বন বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ পর্যন্ত সোনাদিয়া দ্বীপের তিনটি মৌজার ৮ হাজার ৪৫ একরের মতো বনভূমি বন বিভাগের কাছে ফেরত এসেছে। তবে বেজার হাতে এখনো এ দ্বীপের ৬টি মৌজায় ১২ হাজার ২৭০ একর বনভূমি রয়ে গেছে।

প্রকল্প পরিচালক ফাহমিদা হক খান জানান, এই মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি সভায় উচ্ছেদ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ২০২৫ সালে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন এক জরিপে ৪৫ কিলোমিটার বাঁধ চিহ্নিত করে, সেটা উচ্ছেদে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়েছিল সরকারের কাছে। একই বছর ১১টি অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উচ্ছেদের পাশাপাশি দ্বীপের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং পুনরায় যেন দখল না হয়, সেজন্য শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo