রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ১০

Published: October 4, 2026, 5:30 pm

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই সহিংস ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। তাঁদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরে রাত দশটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটের মতো দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সাংবাদিক মাঈনুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তিনি আরও জানান, পরে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও মারধর করা হয়। এছাড়া জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে এবং অন্য সাংবাদিকরা বাঁচাতে গেলে তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, আহসান হাবীব তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাকিবুল ও আহসান হাবীব শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীদের হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম এ ঘটনার সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান উপস্থিত হয়ে ছাত্রদলের কর্মীদের অস্ত্র লুকাতে দেখলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যর্থ হন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পুলিশকে কল দেওয়া হলেও তারা ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।.রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল।

পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo