১০টি এয়ারবাস কিনতে ৭ অক্টোবর চুক্তি সই করছে বিমান

Published: October 4, 2026, 4:03 pm

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ৪ অক্টোবর (রবিবার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার পক্ষে প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে স্বাক্ষর করবেন। এ সময় অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন।

এই চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১০টি এয়ারবাস কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ। এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘপাল্লার রুটে এবং এ৩২১নিও মাঝারি ও আঞ্চলিক দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী। এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।" মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই এয়ারবাসগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে এই উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা জেট উড়োজাহাজগুলোর বেশির ভাগই মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি। নতুন প্রজন্মের এ৩৫০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই শীর্ষ নির্মাতার উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান তাদের বহর পরিচালনা করতে পারবে। এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি বিমানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। ফলে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাসের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ। তবে নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিমানের স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৭ অক্টোবর চুক্তিটি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh