প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সাদেকীন হাবিব বাপ্পী শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রঞ্জনের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী পরিমল চন্দ্র বর্মণ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটির সময়। ২৫ মে শুরু হওয়া সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা লক্ষ্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এরপর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর সংযোগটি পুনরায় সচল করেন। এই বিশেষ টেলিফোনটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান।
এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে ১ জুন শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবনের মধ্যে থাকা কপার কেবল ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে উঠে ওই কপার কেবল কেটে ফেলায় সংযোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ রঞ্জন চন্দ্র এবং তার কাছে তার ক্রয়কারী ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। গত ৫ জুন আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তারা কারাগারে ছিলেন।





