গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন

Published: September 17, 2026, 3:07 pm

উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকটের কারণে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল রান্নার মতো দৈনন্দিন কাজ নয়, বরং শিল্প উৎপাদন ও হাসপাতালের জরুরি সেবাকেও ব্যাহত করছে। ঢাকার বাসিন্দা পারভিন আক্তারের মতো অনেকেই এখন গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং লোহিত সাগরে হুতিদের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শেল-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন কমেছে। যুদ্ধের আগের তুলনায় এলএনজির স্পট মার্কেটের দাম ১০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি এলএনজি নির্ভর, যার ৯৫ শতাংশ আগে কাতার থেকে আসত। সরবরাহ কমায় এখন বাংলাদেশকে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার। বিকেএমইএ-এর জরিপ অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিক থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানার ক্রেতারা অর্ডার বাতিল বা কমিয়ে দিয়েছেন। ৭৮ শতাংশ কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিমানপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। ফ্রান্সের এক ক্রেতার অর্ডার পাঠাতে তাদের ৫০ হাজার ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে। এছাড়া, কারখানা সচল রাখতে ডিজেল ব্যবহারের বাড়তি খরচ তো রয়েছেই।

সংকটটি শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইলের পোলট্রি খামারি সায়েদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে খামারের ফ্যান চালাতে না পারায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি মুরগি মারা যাচ্ছে। সিলেটের একটি হাসপাতালে আইসিইউ জেনারেটরে চললেও ওয়ার্ডগুলোতে গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ স্বীকার করেছেন যে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে আসছে। এফবিসিসিআইয়ের ফজলুল হক জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে একটি অচল এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও একই ধরনের জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin