জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

Published: September 17, 2026, 12:06 pm

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক আসছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বমঞ্চে তার অভিষেক হবে, যেখানে তিনি তার পরিকল্পিত ‘নতুন বাংলাদেশ’র রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজ অবস্থান পরিষ্কার করবেন। তার কেবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বেই বিশ্বসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র। একই পরিবারের পিতা, মাতা ও তাদের সন্তান রাষ্ট্র শাসনকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেছেন এমন কোনো নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই। গায়ানার প্রেসিডেন্ট ডঃ চেদ্দি জাগান ও তার স্ত্রী জ্যানেট জাগান ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের ৫৩তম অধিবেশনে যোগ দিলেও, তাদের সন্তানরা তখন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না। সেদিক থেকে জিয়া পরিবার জাতিসংঘের ইতিহাসে এক অনন্য ও অদ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যদিও ভারতের নেহেরু পরিবারের ক্ষেত্রেও একাধিক সদস্যের জাতিসংঘে যোগদানের নজির রয়েছে, তবে সম্পর্কের ভিন্নতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের এই অবস্থান অনন্য। শহীদ জিয়া ১৯৮০ সালে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯৩, ২০০২ ও ২০০৫ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। তৎকালীন অর্থনৈতিক বিপর্যয়, স্নায়ু যুদ্ধের উত্তেজনা ও উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকটময় মুহূর্তে তিনি কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অসহায়ত্বের কথা বলেননি, বরং ছোট ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার শাসনামলেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি পায় এবং মুসলিম বিশ্বসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার হয়। অনেক দেশ সফর ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে তিনি বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সমৃদ্ধ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে যোগ দেয়। মাত্র চার বছরের মাথায় ১৯৭৮ সালের ১০ নভেম্বর, রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বের সুবাদে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। জাপানের মতো ধনী ও প্রভাবশালী দেশকে ভোটে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের আসন লাভ করা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিল। সেই সময় থেকেই বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং জিয়ার বৈদেশিক নীতির কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin