ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মানুষের ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিকেটরদের একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এটিকে কেবল পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে না দেখে, জীবন বাঁচানোর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী তিন মাসের একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গতানুগতিক সরকারি প্রচারণার বৃত্ত ভেঙে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিন হাজার চিকিৎসককে রিফ্রেশার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্যালাইনের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং হাসপাতালের বেড প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়িয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়; এর জন্য মানুষের আচরণগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। আর এই সচেতনতা তৈরির কাজটি কনটেন্ট নির্মাতারা সরাসরি ও কার্যকরভাবে করতে পারেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "মানুষ আপনাদের কথা শোনে। এটাকে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে না দেখে ভেতরের তাগিদ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেখুন। আপনার বানানো একটি সৃজনশীল ভিডিও হয়তো কারও পরিবারের একটি প্রাণ রক্ষা করতে পারে।"
বৈঠকে আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ক্রিয়েটর ও এজেন্সিগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের কনটেন্টগুলো প্রচারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪২আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪৪





