প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ১১। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের রায় উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় রংপুর মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা কখনোই আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইনি, বরং সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ না দেখানোয় তারা আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়ায় ১১ দলীয় জোট ৯ দফা দাবিতে লংমার্চ শুরু করেছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এতে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাইয়ের গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের শর্তে আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি দলের এমপিরা সেই রায় উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে দেশ চালাচ্ছে। সরকার জুলাই গণহত্যার বিচারের কথা মুখে বললেও বাস্তবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃষকরা সার না পেয়ে বিক্ষোভ করছেন, অথচ সরকার সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত। এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নজিরবিহীন দলীয়করণের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পথ অনুসরণ করলে ছাত্র-জনতা তাদেরও একই পরিণতি দেবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বিষয়গুলো সংশোধনের জন্য বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার তা উপেক্ষা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আল মামুনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।





